বৈধ না হলেও ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন করা অপরাধ নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক


Bangladesh Bank about Cryptocurrency

ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বর্তমান আধুনিক যুগে বহুল প্রচলিত। কিন্তু এটি একধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা হওয়ায় বাস্তবে এটির কোন অস্তিত্ব থাকে না। যার কারণে এটিকে বেশিরভাগ সময় অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার করা হয়। এজন্য বেশ কয়েকটি দেশে এই ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈধ ধরা হয়না।

আবার, বেশ কিছু দেশে এটির ব্যবহার ও লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেসকল দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশেও এটির ব্যবহার বৈধ বা অপরাধমূলক কিনা সেটি নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। 

তবে সিআইডির এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধোঁয়াশাকে কিছুটা পরিষ্কার করেছে।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক লেনদেনকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো বিটকয়েন। এই বিটকয়েন সম্পর্কিত মামলার তদন্তেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করে সিআইডি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শফিউল আজম প্রশ্নের জবাবে জানান - 
ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ ও লেনদেন বৈধতা না পেলেও এটি অপরাধ নয়

যদিও ২০১৭সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন বিষয়ে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। 

তবে শফিউল আজম আরও জানান যে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুসারে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনও অবৈধ হতে পারে।


বিটকয়েন বা ভার্চুয়াল মুদ্রাই হলো ভবিষ্যৎ। তাই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি সংস্থা বিটকয়েনকে বাংলাদেশে বৈধ করে একটি পরিষ্কার আইন প্রনয়নের দাবি জানিয়েছে।

গত ৯ই জুন এল সালভাদর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাছাড়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র  ও আরব আমিরাতও এই ভার্চুয়াল মুদ্রাকে বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে।


অপরদিকে, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান নির্বাহী আহসান এইচ মনসুরের মতে, যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি করা সম্ভব নয় তাই অর্থ পাচারের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। এজন্য তিনি বলেছেন - 
ক্রিপ্টোকারেন্সিকে অনুমোদন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন


0 মন্তব্যসমূহ