আইডি কার্ডের বিনিময়ে কি টাকা আয় করবো?



আইডি কার্ডের ছবির বিনিময়ে অর্থ

আইডি কার্ডের ছবির বিনিময়ে অর্থ    


হ্যাঁ, শুধুমাত্র আইডি কার্ডের ছবি দিলেই মেলবে ১০-২০ডলার (অনেক সময় আরও বেশি) যা বাংলাদেশি টাকায় ৮৫০-১৭০০টাকার মতো হয়ে থাকে। এরকম অফারই দিচ্ছে নানা ধরনের ওয়েবসাইট। তুমিই বলো এরকম লোভনীয় অফার কি আর মিস্ করা যায়?

আমি জানি তুমিও ঠিক এই লোভনীয় শিরোনাম দেখেই ব্লগটি পড়তে এসেছো। কিন্তু আমি খুবই দুঃখিত, কারণ ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়ার পর হয়তো তোমার এই লোভটি কেটে যাবে (অনেকটা 'নেশা কেটে গেলে, তুমিও কেটে যাবে' এর মতো)। আশা করি এই ব্লগটি তোমার সাধারণ জ্ঞানকে আরও একটু বাড়িয়ে দিবে।

কোথায় পাওয়া যাচ্ছে এমন অফার?

প্রথমত, যেই ধরনের ওয়েবসাইটে এমন অফার পাওয়া যায় তা হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোতে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি
বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি

ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো অনলাইন ভিত্তিক কারেন্সি বা খাঁটি বাংলায় বললে অনলাইনে টাকা। এই ধরনের টাকা বা কারেন্সি স্পর্শ করা যায়না। এটি শুধু অনলাইনেই থাকে, আর সেখানেই আদান-প্রদান করা যায়। কিছু পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো-- বিটকয়েন, ডগিকয়েন, এথারকয়েন, লাইটকয়েন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির চাহিদা দিন-দিন বেড়েই চলেছে। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি। আর এটিরই সুবিধা নিচ্ছে অনেক অসাধু-ভন্ড লোক বা প্রতিষ্ঠান। তারা নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরির নাম করে সৃষ্টি করছে এয়ারড্রপ। 

এই এয়ারড্রপ পাবজির কোন এয়ারড্রপ নয়। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এয়ারড্রপ হলো বিশেষ ধরনের অফার যেখানে নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি আশার পূর্বে ব্যবহারকারিদের রেজিষ্ট্রেশন করতে বলা হয়, আর ব্যবহারকারিদেরকে কিছু পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ফ্রিতে দেয়া হয়।

ভন্ড প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের এয়ারড্রপের বাহানা করে ও ফ্রিতে কিছু টাকা (ডলার) দেয়ার কথা বলে। সেজন্য তারা ব্যবহারকারীদেরকে কিছু টাস্ক দিয়ে থাকে। এই ধরনের টাস্কগুলোর ভেতর থাকে ফেসবুক পেইজে লাইক দেয়া, টুইটারে ফলো করা। তবে সবচেয়ে বিপদজনক বা যে বিষয়টি নিয়ে আমি আজকে লিখছি সেটি হলো তারা ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের নামে তাদেরকে তাদের আইডি কার্ডের ছবি দিতে বলে। এই আইডি কার্ড ন্যাশনাল আইডি কার্ডের পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্সও হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অন্যান্য অনেক ওয়েবসাইট ও এপেও টাকা
দেওয়ার নাম করে ব্যবহারকারীর একাউন্ট ভেরিফিকেশনের বাহানায় তাদের আইডি কার্ডের ছবি হাতিয়ে নিচ্ছে।

এই ওয়েবসাইট বা এপগুলো বেশিরভাগই বিদেশি হয়ে থাকে।তবে আজকাল কিছু বাংলাদেশি সাইটও বেরিয়েছে যেগুলোতে ৫০-১০০টাকা রিচার্জ বা বিকাশে দেওয়ার নাম করে আইডি কার্ড চাওয়া হয়। 

এই ওয়েবসাইটগুলোর অনেক ওয়েবসাইটই ডলার বা টাকা প্রদান করেনা। তবে কিছু সাইট আসলেই অর্থ প্রদান করে থাকে।

কেন আইডি কার্ডের ফটো দিবোনা?

তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগবে একটি আইডি কার্ডের ফটো দিলেই যদি এতো টাকা পাওয়া যায় তাহলে কেন দিবোনা?

হুমমম...তোমার প্রশ্নটি করা থেকেই আমি বুঝতে পারছি তুমি অনেক সাধু, ভদ্র ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু অনলাইন জগৎ ততোটা সহজ নয়। অসাধু মানুষেরা অনলাইনে এসে গেছে যারা মানুষের সাথে প্রতারণা করছে।

অসাধু ব্যক্তিরা তোমার দেয়া আইডি কার্ড দিয়ে নানা অনৈতিক কাজ করতে পারে। কিভাবে? অসাধু ব্যক্তিরা অন্যের তথ্যকে চুরি করে যেটিকে বলা হয় আইডেন্টিটি থেফট বা আইডেন্টিটি ফ্রড

আইডেন্টিটি থেফ্ট
আইডেন্টিটি থেফ্ট  

আইডেন্টিটি থেফ্ট বলতেই বুঝা যায় পরিচিতি চুরি। সাধারণ ভাষায়, অন্যের পরিচয়কে নিজের বলে চালিয়ে দেয়াই হলো আইডেন্টিটি ফ্রড বা থেফ্ট। অসাধু ব্যক্তিরা যাতে তাদের অপরাধ করার সময় ধরা না পড়ে সেজন্য তারা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে।

অনলাইনের এই যুগে আইডেন্টিটি থেফ্ট এর পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছে। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত না বুঝে আমাদের অনেক ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করছি যেটাকে কাজে লাগাচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা।

আইডেন্টিটি থেফ্ট সম্পর্কে আরও জানতে পারবে এখানে-- https://www.nidirect.gov.uk/articles/protect-your-identity

তোমরা যদি আইডি কার্ডের ফটো অনলাইনে শেয়ার করো তাহলে অসাধু ব্যক্তিরা সেটিকে তাদের কাজে লাগাবে। তারা সেটিকে অনলাইনে ব্যবহার করতে পারে, আর কিছু এডিট করে প্রিন্ট আউট করে অফলাইনেও ব্যবহার করতে পারে।

তাহলে তুমিই বলে, তুমি কি ১০০০টাকা পেতে চাও নাকি অন্যের করা অপরাধের শাস্তি পেতে চাও???

কোথায় আইডি কার্ড দেয়া যাবে?

এখন যে তুমি অনলাইনে কোথাও আইডি কার্ডের ছবি বা তথ্য দিতে পারবেনা তেমনটি নয়। এমন অনেক বিশ্বস্ত সাইট রয়েছে যেগুলোতে আইডি কার্ড দেয়া যেতে পারে। বিশেষ করে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো ফাইনেন্সিয়াল সাইটে কার্ড দেয়া যেতে পারে। তবে অন্যকোথাও আইডি কার্ড দেয়ার পূর্বে ১০০বার ভাবতে হবে।

*Stay Smart, Stay Safe*




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন


0 মন্তব্যসমূহ