তোমার প্রতি সার্চে গাছ লাগাবে এই সার্চ ইঞ্জিন



ইকোশিয়া সার্চ ইঞ্জিন লোগো
ইকোশিয়া - যে সার্চ ইঞ্জিন গাছ লাগায় 

বর্তমানে আমরা এতোটা ইন্টারনেটের সাথে জড়িয়ে গিয়েছি যে প্রতি মুহূর্তে আমাদের সার্চ ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয়। আর আমরা সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি "গুগল" বা আমার ভাষায় 'গুগল মামা'। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা গুগল ছাড়াও যে অন্যান্য ভালো সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। তবে অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে টিকতে পারছেনা।

এমনই কম পরিচিত একটি সার্চ ইঞ্জিন হলো "ইকোশিয়া" (ecosia.org)। এই সার্চ ইঞ্জিনটিকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে বানানো হয়েছে। আরে ভাই, সার্চ ইঞ্জিন পরিবেশ রক্ষা করে কিভাবে? 

আসলে এই সার্চ ইঞ্জিনটি থেকে যে পরিমাণ রেভেনিউ বা আয় হয় সেটির বেশিরভাগ অংশ গাছ লাগানোতে খরচ করা হয়। সংস্থাটি বলছে তাদের আয়ের ৮০%অংশ গাছ লাগানোতে ব্যয় করা হয়।


সার্চ ইঞ্জিনঃ

ক্রিশ্চিয়ান ক্রল ইকোশিয়ার সিইও
ক্রিশ্চিয়ান ক্রল - ইকোশিয়া সিইও

'ইকোশিয়া' মূলত জার্মানির প্রতিষ্ঠান। এটির সিইও হলেন "ক্রিশ্চিয়ান ক্রল"। সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে এটি মুুুুুুক্তি
পায় ২০০৯সালের ৭ডিসেম্বর। প্রথম যখন এটি চালু হয়েছিল তখন এটি " বিং" ও "ইয়াহু" র মাধ্যমে সার্চ ফলাফল প্রদর্শন করতো। বর্তমানে, এটি শুধু বিং ও এটির নিজস্ব এলগরিদম ব্যবহার করে সার্চ ফলাফল প্রদর্শন করে।

২০১৮সাল থেকে, ইকোশিয়া এই সার্চ ইঞ্জিনের প্রাইভেসির দিকে বেশি নজর দেয়। যেখানে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারিদের তথ্যকে বিক্রি করে সেখানে এটি ব্যবহারকারিদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটির প্রতিটি সার্চ এনক্রিপ্টেড থাকে। ফলে ডিভাইসে কোন সার্চ সরাসরি জমা থাকেনা।   

এটির রয়েছে এন্ড্রয়েড ও আইওএস এপ। প্লে স্টোর লিঙ্কটি হলো-- https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ecosia.android

তাছাড়া, এটিকে ওয়েব ব্রাউজারের সাথে ব্যবহার করা যায়। সেজন্য, ওয়েব স্টোর থেকে একটি এক্সটেনশন ডাউনলোড করতে হয়। তাহলেই 'ইকোশিয়া' প্রধান বা মূল সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে।

ট্রাফিক অনুসারে ইকোশিয়া ওয়েবসাইটটি বিশ্বের #৩৭৭তম ওয়েবসাইট। (Alexa Rank) [১৪ফেব্রুয়ারি, ২০২০]

আয় ও ব্যয়ঃ

 সার্চ ফলাফলের পাশে এটি এড প্রদর্শন করে আয় করে থাকে। এই এডগুলো মূলত ইয়াহু থেকে দেখানো হয়ে থাকে। ইকোশিয়ার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, প্রতিটি সার্চে কোম্পানির আয় হয় ০.০০৫ ইউরো। আর কোম্পানিটি প্রতি ০.৮সেকেন্ডে একটি করে গাছ লাগাতে সক্ষম।

তাছাড়া, ইকোশিয়ার রয়েছে "ইকোশিয়া ক্লথিং" নামের শপিং সাইট (https://ecosia.teemill.com/) যেখানে বিভিন্ন টি-শার্ট বিক্রি করেও কোম্পানিটি আয় করে থাকে। 

২০১১সাল, ইকোশিয়া ২৫০,০০০ইউরোর অধিক পরিমাণ টাকা আয় করেছিল।

ইকোশিয়া মূলত একাধিক ছোট-বড় সংস্থার সাথে যুক্ত যারা এই টাকাগুলো দিয়ে গাছ লাগিয়ে থাকে। ইকোশিয়া ইতিমধ্যেই ৮৪মিলিয়নের বেশি গাছ লাগিয়ে ফেলেছে।             



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন


0 মন্তব্যসমূহ